এত বছর পর্যন্ত জানতাম এই 'হাট্টিমা টিম টিম' ছড়াটা ৪ লাইন।


 এত বছর পর্যন্ত জানতাম এই 'হাট্টিমা টিম টিম' ছড়াটা ৪ লাইন। পূ্র্বে এটি চার লাইনের ছড়াই ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই ৪ লাইনের ছড়ার সঙ্গে আরও ৪৮ লাইন যুক্ত করা হয়। তাই বলা হচ্ছে এটা ৫২ লাইনের। 


৫২পঙ্​ক্তির আসল লেখক, নাদিয়া জামান। ২০১২ সালে এই যুক্তরাজ্য প্রবাসী সামহোয়্যার ইন ব্লগে এটি প্রকাশ করেন। তিনি ৪৮ পঙ্​ক্তি নিজে লিখে শেষের ৪ পঙ্​ক্তিতে প্রচলিত ‘হাট্টিমা টিম্ টিম’ ছড়াটি জুড়ে দেন।

'

'টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম

বাজার থেকে শিম

মনের ভুলে আনলো কিনে

মস্ত একটা ডিম।

বলল এটা ফ্রি পেয়েছে

নেয়নি কোনো দাম

ফুটলে বাঘের ছা বেরোবে

করবে ঘরের কাম।

সন্ধ্যা সকাল যখন দেখো

দিচ্ছে ডিমে তা

ডিম ফুটে আজ বের হয়েছে

লম্বা দুটো পা।

উল্টে দিয়ে পানির কলস

উল্টে দিয়ে হাড়ি

আজব দু'পা বেড়ায় ঘুরে

গাঁয়ের যত বাড়ি।

সপ্তা বাদে ডিমের থেকে

বের হল দুই হাত

কুপি জ্বালায় দিনের শেষে

যখন নামে রাত।

উঠোন ঝাড়ে বাসন মাজে

করে ঘরের কাম

দেখলে সবাই রেগে মরে

বলে এবার থাম।

চোখ না থাকায় এ দুর্গতি

ডিমের কি দোষ ভাই

উঠোন ঝেড়ে ময়লা ধুলায়

ঘর করে বোঝাই।

বাসন মেজে সামলে রাখে

ময়লা ফেলার ভাঁড়ে

কাণ্ড দেখে টাট্টু বারি

নিজের মাথায় মারে।

শিঙের দেখা মিলল ডিমে

মাস খানিকের মাঝে

কেমনতর ডিম তা নিয়ে

বসলো বিচার সাঁঝে।

গাঁয়ের মোড়ল পান চিবিয়ে

বলল বিচার শেষ

এই গাঁয়ে ডিম আর রবে না

তবেই হবে বেশ।

মনের দুখে ঘর ছেড়ে ডিম

চলল একা হেঁটে

গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে

ডিম গেলো হায় ফেটে

গাঁয়ের মানুষ একসাথে সব;

সবাই ভয়ে হিম

ডিম ফেটে যা বের হল তা

হাট্টিমাটিম টিম।

হাট্টিমাটিম টিম-

তারা মাঠে পারে ডিম

তাদের খাড়া দুটো শিং

তারা হাট্টিমা টিম টিম।'


 সংগৃহীত : আমার বাংলাদেশ, আমার অহংকার

Post a Comment

أحدث أقدم